এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- হে নবী (সঃ)! তুমি সমস্ত বিষয়ের সম্পর্ক আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দাও। নিজের সম্পর্কে তুমি বলে দাও-ভবিষ্যতের জ্ঞান আমারও নেই। হ্যা, তবে আল্লাহ যেটা বলে দেন একমাত্র সেটাই আমি বলতে পারি। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি (আল্লাহ) অদৃশ্যের সংবাদ জ্ঞাত, তাঁর অদৃশ্য বিষয় কারো উপর প্রকাশিত হয় না (তার অদৃশ্য বিষয় কেউ জানতে পারে না)।” (৭২:২৬)আল্লাহ পাকের উক্তিঃ হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাও আমি যদি অদৃশ্যের বিষয় জানতাম তবে আমি নিজের জন্যে অনেক কিছু কল্যাণ জমা করে নিতাম। অর্থাৎ যদি আমি আমার মত্যর সংবাদ অবগত হতাম যে, কোন তারিখে আমি মারা যাবো, তবে তাড়াহুড়া করে অনেক সকাজ করে ফেলার চেষ্টা করতাম। এটা হচ্ছে মুজাহিদ (রঃ)-এর উক্তি। ইবনে জুরাইহও এটাই বলেন। কিন্তু এ কথায় চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমস্ত কাজ ভালই ছিল এবং তিনি যে কাজই করতেন তা স্থায়ীভাবেই করতেন। তাঁর সমস্ত কাজ একই রকমের ছিল। প্রত্যেক আমলের সময় তার দৃষ্টি আল্লাহর দিকেই থাকতো। মোটকথা, তাঁর কোন আমলই ভাল ছাড়া মন্দ হতো না। হ্যাঁ, ভাবার্থ এরূপ হতে পারে- আমি যদি অদৃশ্যের সংবাদ জানতাম যে, জনগণের কোন্ ধরনের মঙ্গল কোন্ কাজে রয়েছে, তবে আমি তাদেরকে তা অবহিত করতাম। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) (আরবী) -এর অর্থ সম্পদ নিয়েছেন এবং এটাই উত্তমও বটে। অথবা ভাবার্থ হবে- যে জিনিস ক্রয়ে লাভ বা উপকার রয়েছে তা আমার জানা থাকলে ওটা অবশ্যই ক্রয় করতাম। আর কোন জিনিস বিক্রয় করতাম না যে পর্যন্ত না ওর লাভ জানতাম। মোটকথা, ব্যবসায়ে কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হতাম না বা কাউকেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতাম না। অথবা দারিদ্র বা সংকীর্ণতা আমাকে কখনো স্পর্শ করতো না। কেউ কেউ এ অর্থও নিয়েছেন- দুর্ভিক্ষ আসার খবর জানলে পূর্বেই বহু খাদ্য জমা করে রাখতাম। সস্তার সময় কিনতাম এবং দুর্মূল্যের সময় বিক্রী করতাম। ফলে আমাকে দারিদ্র স্পর্শ করতে পারতো না। কেননা, আমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই থাকতো না।(আরবী) আমি শুধু (জাহান্নাম হতে) ভয় প্রদর্শনকারী এবং (জান্নাতের) সুসংবাদদাতা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “আমি কুরআনকে তোমার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যেন এর মাধ্যমে মুত্তাকীদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও এবং বিবাদী ও ঝগড়াটে লোকদেরকে (জাহান্নাম হতে) ভয় প্রদর্শন কর।”