(আরবী) শব্দটি (আরবী) ওযনে (আরবী) শব্দ হতে গৃহীত। অর্থাৎ হুকুম করেছেন বা জানিয়েছেন। আর যেহেতু এই আয়াতে কালামের শক্তির শান’ রয়েছে, সেহেতু (আরবী) শব্দের (আরবী) কসমের ফায়েদা দিচ্ছে। এজন্যে (আরবী)-এর পরেই (আরবী) আনা হয়েছে। (আরবী) সর্বনামটি ইয়াহূদীদের দিকে ফিরছে। অর্থাৎ আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন। বা জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঐ ইয়াহূদীদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত কঠিন শাস্তি নাযিল হতে থাকবে। অর্থাৎ তাদের অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্যপনা এবং প্রতিটি কাজে কর্মে প্রতারণার কারণে তারা লাঞ্ছনা ও অপমানজনক শাস্তি পেতে থাকবে। কথিত আছে যে, হযরত মূসা (আঃ) তাদের উপর সাত বছর বা তেরো বছর পর্যন্ত খেরাজ ধার্য করেছিলেন। আর তিনিই সর্বপ্রথম খেরাজ চালু করেছিলেন। অতঃপর ঐ ইয়াহূদীদের উপর ইউনানী, কশিদানী এবং কালদানীরা আধিপত্য লাভ করে। তারপর তারা খ্রীষ্টানদের ক্রোধের শিকার হয়। তারা তাদেরকে লাঞ্ছিত করতে থাকে। তাদের নিকট থেকে তারা জিযিয়া ও খেরাজ আদায় করতে থাকে। যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটে তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের উপর প্রাধান্য লাভ করেন। তারা যিম্মী ছিল এবং জিযিয়া কর প্রদান করতো। (সাঈদ ইবনে জুবাইর (রঃ), ইবনে জুরাইজ (রঃ), সুদ্দী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) এরূপই বলেছেন) সর্বশেষে তারা দাজ্জালের সাহায্যকারী রূপে বের হবে। কিন্তু মুসলমানরা তাদেরকে হত্যা করবে। এই উদ্দেশ্যে হযরত ঈসা (আঃ) মুসলমানদের সাথে সহযোগিতা করবেন। এসব কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঘটবে। আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা সত্বরই পাপীদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণকারী। (আরবী) কিন্তু তিনি অবশ্যই ক্ষমাশীল ও দয়ালুও বটে। যে তাওবা করে তাকে তিনি ক্ষমা করে থাকেন। এখানেও একই কথা যে, আযাব ও রহমতের বর্ণনা সাথে সাথেই হয়েছে। যেন শাস্তি থেকে ভয় প্রদর্শনের কারণে মানুষ নৈরাশ্যের মধ্যে হাবুডুবু না খায়। তিনি উৎসাহ প্রদান ও ভয় প্রদর্শন একই সাথে করেছেন, যাতে মানুষ ভয় ও আশার মধ্যে থাকতে পারে।