১০-১১ নং আয়াতের তাফসীরআল্লাহ তা'আলা এখানে স্বীয় ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন। যমীন, আসমান ও সমগ্র সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা তিনিই। আসমানকে তিনি কোন স্তম্ভ ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন এবং উচ্চে স্থাপন করে রেখেছেন। আসলে আকাশের কোন স্তম্ভই নেই, যদিও মুজাহিদ (রঃ) বলেছেন যে, স্তম্ভ মানুষ দেখতে পায় না। এ প্রশ্নের পূর্ণ বিবরণ সূরায়ে রাআ’দের তাফসীরে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। ধরাধামকে দৃঢ় করার জন্যে ও নড়াচড়া করা হতে বাঁচাবার জন্যে তিনি এর উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছেন যাতে মানুষ ভূমিকম্প ও ঝাঁকুনি হতে রক্ষা পায়। তিনি এতো বেশী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নানা প্রকার জীব-জন্তু সৃষ্টি করেছেন যেগুলোর সংখ্যা নিরূপণ কেউই করতে পারে না।তিনি যে একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা তা বর্ণনা করার পর তিনিই যে আহার্যদাতা তার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনিই আসমান হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং এর মাধ্যমে জমি হতে সর্বপ্রকারের কল্যাণকর উদ্ভিদ তিনি উদাত করে থাকেন। এগুলো দেখতেও সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু এবং খেলে কোন ক্ষতিও হয় না, বরং উপকার হয়। শাবী (রঃ) বলেছেন যে, যমীনের সৃষ্টের মধ্যে মানুষও একটি সৃষ্টি। জান্নাতীরা সম্মানিত এবং জাহান্নামীরা হীন ও নিন্দনীয়।এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তা'আলার এই সমুদয় সৃষ্টি তো তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে। এখন তোমরা তাঁকে ছাড়া যাদেরকে পূজনীয় মেনে নিয়েছে এবং পূজা করতে রয়েছে তাদের সৃষ্টবস্তু কোথায়? তারা যখন সৃষ্টিকর্তা নয় তখন তারা পূজনীয়ও হতে পারে না। সুতরাং তাদের উপাসনা করা চরম অন্যায় ও অবিচার নয় কি? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাথে শিকারীদের অপেক্ষা বড় অন্ধ, বধির, অজ্ঞান এবং নির্বোধ আর কে আছে?