আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন- হে নবী (সঃ)! কাফিররা এ যোগ্যতা রাখে না যে, তুমি তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। একবার নয় বরং সত্তর বারও যদি তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর তথাপি আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। এখানে যে সত্তরের উল্লেখ করা হয়েছে তা দ্বারা শুধু গণনার আধিক্য বুঝানো হয়েছে। সত্তরের কমই হাক বা আরো বেশী হাক। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা সত্তরই বুঝানো হয়েছে। যেমন ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি তো তাদের জন্যে সত্তর বারেরও বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করবো যে, হয়তো আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন।” তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর ভীষণ ক্রোধ ভরে ঘোষণা করলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তোমার তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করা সমান কথা, আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না।"শা'বীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই যখন মত্যযন্ত্রণায় ছটফট করে তখন তার পুত্র নবী (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয়ে আরয করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার পিতা মত্যুর শিয়রে শায়িত। আমার মনের আকাঙ্ক্ষা এই যে, আপনি তার কাছে তাশরীফ নিয়ে যাবেন এবং তার জানাযার নামায পড়াবেন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমার নাম কি?” সে উত্তরে বলেঃ “আমার নাম হাবাব।” তিনি বললেনঃ “তোমার নাম আব্দুল্লাহ (রাখা হলো)। হাবাব তো শয়তানের নাম।” অতঃপর তিনি তার সাথে গেলেন। তার পিতাকে স্বীয় ঘর্ম মাখানো জামাটি পরিধান করালেন এবং তার জানাযার নামায পড়ালেন। তাঁকে বলা হলোঃ “আপনি এর (মুনাফিকের) জানাযার সালাত পড়ছেন? তিনি উত্তরে বললেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তুমি যদি সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। তাই আমি সত্তর বার, আবার সত্তর বার এবং আবারও সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করবো। (উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রঃ), মুজাহিদ (রঃ) এবং কাদাতা ইবনে দাআ’মী (রঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর ইবনে জারীর (রঃ) এটাকে তাঁর ইসনাদসহ বর্ণনা করেছেন)