এখানে মুশরিকদের অজ্ঞতার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তারা সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা, ক্ষমতাবান এবং স্বেচ্ছাচারী বাদশাহ মহান আল্লাহকে ছেড়ে তাদের ইবাদত করছে যারা একটা মশাও সৃষ্টি করতে পারে না। বরং তারা নিজেরাও আল্লাহর সৃষ্ট। তারা নিজেদেরও লাভ এবং ক্ষতির অধিকার রাখে না, অপরের লাভ ক্ষতি করা তো দূরের কথা। তারা নিজেদের জীবন মৃত্যুর মালিক নয় এবং পুনরায় জীবন লাভেরও ক্ষমতা রাখে না। তাহলে যারা তাদের উপাসনা করছে তাদের এগুলোর মালিক তারা কি করে হতে পারে? প্রকৃত কথা এটাই যে, এই সমুদয় কাজের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনিই জীবিত রাখেন এবং তিনিই মারেন। তিনিই কিয়ামতের দিন সমস্ত মাখলুককে নতুনভাবে সৃষ্টি করবেন। এ কাজ তাঁর কাছে মোটেই কঠিন নয়। একজনকে সৃষ্টি করা ও সকলকে সৃষ্টি করা, একজনকে মৃত্যুর পরে জীবিত করা এবং সকলকে জীবিত করা তাঁর কাছে সমান। চোখের পলকে তার হুকুম পূর্ণ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “ওটা একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ, এর সাথে সাথেই সমস্ত মৃত মাখলুক জীবিত হয়ে তাঁর সামনে এক বিরাট ময়দানে দাঁড়িয়ে যাবে।” (৭৯:১৩-১৪) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “এটা তো শুধু এক বিকট আওয়াজ, আর তখনই তারা প্রত্যক্ষ করবে।” (৩৭: ১৯) আল্লাহ তা'আলা আরো এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “এটা তো হবে শুধু এক মহানাদ; তখনই তাদের সকলকে উপস্থিত করা হবে আমার সম্মুখে।" (৩৬:৫৩) সুতরাং তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি ছাড়া কোন প্রতিপালক নেই। আমরা তার ছাড়া আর কারো ইবাদত কামনা করি না। কারণ তিনি যা চান তা হয় এবং যা চান না তা হয় না। তিনি এমনই যে, তাঁর কোন সন্তান নেই, পিতা নেই, সমকক্ষ নেই, স্থলাভিষিক্ত নেই, উযীর নেই এবং তুলনা নেই। বরং তিনি একক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তার মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এক তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি, এবং তার সমতুল্য কেউই নেই।