৫-৭ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা যে চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলি থেকে যে মানুষ বিভিন্ন প্রকারের উপকার লাভ করছে সেই নিয়ামতেরই তিনি বর্ণনা দিচ্ছেন। যেমন উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি। যার বিস্তারিত বিবরণ তিনি সূরায়ে আন্ আমের আয়াতে আট প্রকার দ্বারা দিয়েছেন। মানুষ ওগুলির পশম দ্বারা গরম পোশাক তৈরী করে, দুধ পান করে, গোশত খায় ইত্যাদি। সন্ধ্যাকালে চরণ শেষে যখন ওগুলি ভরা পেটে মোটা স্তন ও উঁচু কুঁজসহ গৃহে ফিরে আসে। তখন ওগুলিকে কতই না সুন্দর দেখায়।মহান আল্লাহ বলেনঃ “ওরা তোমাদের ভারী ভারী বোঝা পিঠের উপর বহন করে এক শহর হতে অন্য শহরে নিয়ে যায়। ওদের সাহায্য না পেলে তথায় পৌঁছতে তোমাদের ওষ্ঠাগত প্রাণ হয়ে যেতো। হজ্জ, উমরা, জিহাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদির জন্যে সফর করার কাজে ঐ গুলিই ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ ঐ জন্তু গুলিই তোমাদেরকে ও তোমাদের বোঝাগুলি বহন করে নিয়ে যায়। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেনঃ “এই চতুষ্পদ জন্তুগুলির মধ্যেও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। ওগুলির পেট থেকে আমি তোমাদের দুগ্ধ পান করিয়ে থাকি এবং ওগুলি দ্বারা বহু উপকার সাধন করি। তোমরা ওগুলির গোশতও ভক্ষণ কর এবং ওগুলির উপর সওয়ারও হও। সমুদ্রে ভ্রমণের জন্যে আমি নৌকাও বানিয়েছি।” অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা ওগুলির উপর আরোহণ কর এবং (দুধ, গোশত) ভক্ষণ কর। আর সেগুলিতে রয়েছে তোমাদের জন্যে আরো নানা প্রকারের উপকার এবং যেন তোমরা ওগুলি দ্বারা তোমাদের মনের চাহিদা পূরণ কর। তোমাদেরকে তিনি নৌকাতেও আরোহণ করিয়েছেন এবং বহুকিছু নিদর্শন দেখিয়েছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন্ নিদর্শনকে অস্বীকার করবে?” এখানেও মহান আল্লাহ তাঁর নিয়ামত গুলি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেনঃ “তিনি তোমাদের সেই প্রতিপালক যিনি এই চতুষ্পদ জন্তুগুলিকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল ও দয়ালু।” যেমন সূরায়ে ইয়াসীনে তিনি বলেছেনঃ “তারা কি লক্ষ্য করে না যে, নিজ হাতে সৃষ্ট বস্তুগুলির মধ্যে তাদের জন্যে আমি সৃষ্টি করেছি চতুষ্পদ জন্তু এবং তারাই ওগুলির অধিকারী?” অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “ঐ আল্লাহ তাআ’লাই তোমাদের জন্যে নৌকা বানিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা ওগুলির উপর সওয়ার হও এবং তোমাদের প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং বলঃ “তিনি পবিত্র যিনি এগুলিকে আমাদের অনুগত করে দিয়েছেন, অথচ আমাদের কোন ক্ষমতা ছিল না, আমরা বিশ্বাস করি যে, তাঁরই নিকট আমরা ফিরে যাবো।” হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবি) এর ভাবার্থ কাপড়। আর (আরবি) দ্বারা পানাহার করা, বংশ লাভ করা, সওয়ার হওয়া, গোশত খাওয়া এবং দুধ পান করা ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে।