এটা একটা দৃষ্টান্ত যা আল্লাহ তাআলা এ সব কাফিরের আমলের ব্যাপারে পেশ করেছেন যারা তাঁর সাথে অন্যের উপাসনা করে, রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং যাদের আমলগুলি পায়াহীন বা ভিত্তিহীন অট্টালিকার মত। এর পরিণাম এই দাড়ালো যে, প্রয়োজনের সময় শূন্য হস্ত হয়ে গেল। তাই, মহান আল্লাহ বলেন, কাফিরদের অর্থাৎ আমলগুলির দৃষ্টান্ত কিয়ামতের দিন, যখন তারা সম্পূর্ণরূপে মুখাপেক্ষী থাকবে সাওয়াবের এবং মনে করতে থাকবে যে, হয়তো তারা তাদের সৎ কার্যাবলীর বিনিময় লাভ করবে, কিন্তু আসলে কিছুই পাবে না, বরং নিরাশ হয়ে শুধু হায়, হায় করবে, যেমন ঝড়ের দিন বায়ু প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়ে ভস্ম উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং এদিকে ওদিকে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে দেয়, এই ছাই এর যেমন কোন মূল্য নেই, তেমনই এই কাফিরদের কার্যাবলী মূল্যহীন ও নিষ্ফল হবে। এই ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ছাইগুলি একত্রিত করা যেমন অসম্ভব অনুরূপভাবে তাদের কার্যাবলীর বিনিময় লাভও অসম্ভব। যেমন আল্লাহ তাআলা এক জায়গায় বলেছেনঃ “এই পার্থিব জীবনে যা তারা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, যা যে জাতি নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে তাদের শস্য ক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেন নাই,তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করে।” অন্য এক স্থানে রয়েছেঃ “হে মুমিনগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং ক্লেশ দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল করো না। যে নিজের ধন লোক দেখানোর জন্যে ব্যয় করে থাকে, এবং আল্লাহ ও পরকালের বিশ্বাস করে না; তার উপমা একটি মসৃণ পাথর যার উপর কিছু মাটি থাকে,অতঃপর তার উপর প্রবল বৃষ্টিপাত তাকে পরিষ্কার করে রেখে দেয়; যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারবে না; আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।”এখানে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এটা তো ঘোর বিভ্রান্তি।” তাদের চেষ্টা। ও কাজ পায়াহীন এবং অস্থির। কঠিন প্রয়োজনের সময় তারা তাদের এসব কাজের কোনই বিনিময় পাবে না। এটাই হচ্ছে বড়ই দুর্ভাগ্য।