আল্লাহ তাআলা মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যেই দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং লোকেরা নিজ নিজ কবর থেকে উঠে হাশরের মাঠে একত্রিত হবে, সেটা হবে খুবই ভয়াবহ দিন। সেই দিন মানুষ মনে করবে যে, দুনিয়ায় তারা একটি দিনের কিছু অংশ মাত্র অবস্থান করেছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “যেই দিন তারা ওটা দেখতে পাবে, তখন এইরূপ মনে করবে যে, তারা শুধুমাত্র একদিনের শেষাংশ অথবা প্রথমাংশে অবস্থান করেছিল। অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “যেই দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেই দিন পাপীরা দলে দলে উদ্বিগ্ন অবস্থায় হাশরের মাঠের দিকে বের হয়ে আসবে। তারা পরস্পরের মধ্যে চুপেচুপে বলাবলি করবে-আমরা দুনিয়ায় দশ দিনের বেশী অবস্থান করিনি। তাদের তীক্ষ্ণ স্মরণশক্তি সম্পন্ন লোক বলবে- তোমরা এক দিনের বেশী অবস্থান করনি।” আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “যেই দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেই দিন পাপীরা শপথ করে করে বলবে যে, তারা এক ঘন্টা ছাড়া (দুনিয়ায়) অবস্থান করেনি।” এতে একথাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন কতই না ঘৃণ্য ও তুচ্ছ! আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ ‘জিজ্ঞেস করা হবে-আচ্ছা বলতো, তোমরা দুনিয়ায় কত বছর অবস্থান করেছিলে? তারা উত্তরে বলবে- এক দিন বা একদিনের কিছু অংশ । তখন স্মরণশক্তি সম্পন্ন লোকদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলবে-তোমরা যদি জানতে যে, তোমরা কতই না অল্প সময় অবস্থান করেছিলে!” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা পরস্পর একে অপরকে চিনবে। পিতামাতা ছেলেকে চিনবে এবং ছেলে পিতামাতাকে চিনবে। আত্মীয়-স্বজন নিজ নিজ আত্মীয়-স্বজনকে চিনতে পারবে। কিন্তু প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিপদ আপদ বা নিজ নিজ সুখ শান্তির মধ্যে নিমগ্ন থাকবে। কোন প্রিয়জন নিজ প্রিয়জনকে কিছুই জিজ্ঞেস করবে না।আল্লাহ তাআলার (আরবী) এই উক্তিটি তার (আরবী) (অবিশ্বাসীদের বড় সর্বনাশ হবে) এই উক্তির মতই। কেননা তারা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবারবর্গকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর চেয়ে বড় সর্বনাশ ও ক্ষতি আর কি হতে পারে যে, তারা কিয়ামতের দিন নিজেদের সঙ্গী সাথীদের সামনে লজ্জিত ও অপমানিত হবে এবং তাদের থেকে পৃথক থাকবে?