আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের বদভ্যাসের বর্ণনা দেয়ার পর এখানে মুমিনদের উত্তম স্বভাবের বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন- এই মুমিনরা পরস্পর একে। অপরের সাহায্য করে থাকে এবং একে অন্যের বাহু স্বরূপ হয়ে থাকে। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে- “এক মুমিন অপর মুমিনের জন্যে দেয়াল স্বরূপ যার এক অংশ অপর অংশকে শক্ত ও মজবুত করে।”তিনি এ কথা বলে তাঁর এক হাতের অঙ্গুলিগুলোকে অন্য হাতের অঙ্গুলিগুলোর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেখিয়ে দেন। অপর একটি সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “মুমিনদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভালবাসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে একটি দেহের মত, দেহের একটি অংশে কষ্ট পৌঁছলে সমস্ত অংশে তা সঞ্চারিত হয় ও সর্বাঙ্গই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”আল্লাহ তা'আলা বলেন, তারা ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করে থাকে। অর্থাৎ মুমিনরা অন্যদের শিক্ষা দীক্ষার ব্যাপারেও উদাসীন থাকে না। বরং তারা সকলকেই ভাল বিষয়ের শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ হতে সাধ্যমত বিরত রাখার চেষ্টা করে। যেমন আল্লাহ তাআলার উক্তিঃ “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হওয়া উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, ভাল কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে।” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ তারা সালাত সুপ্রতিষ্ঠিত করে ও যাকাত দিয়ে থাকে। অর্থাৎ একদিকে তারা আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে তাঁর ইবাদত করে, আর অন্য দিকে তার মাখলুকের প্রতি ইহসান করে।তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলে। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) যা করতে আদেশ করেছেন তা তারা পালন করে এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে।এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন। অর্থাৎ যারা উপরোক্ত গুণের অধিকারী হবে তারা অবশ্যই আল্লাহর করুণা লাভের হকদার। আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন মহাক্ষমতাবান। অর্থাৎ যারা তাঁর অনুগত হয় তাদেরকে তিনি মর্যাদা দিয়েই থাকেন। কেননা, মর্যাদা হচ্ছে আল্লাহর জন্যে, তাঁর রাসূল (সঃ)-এর জন্যে এবং মুমিনদের জন্যে।আল্লাহ হচ্ছেন হিকমতওয়ালা। এটা তাঁর হিকমত ও নিপুণতা যে, তিনি মুমিনদেরকে এসব গুণের অধিকারী করেছেন এবং মুনাফিকদের ঐ সব বদ স্বভাবের অধিকারী করেছেন। তার প্রতিটি কাজ নিপুণতায় পরিপূর্ণ। তিনি বড়ই কল্যাণময় ও মর্যাদাবান।