৯০-৯২ নং আয়াতের তাফসীর: তাদের কুফরী, একগুয়েমী ও পথভ্রষ্টতা কত কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং সত্যের বিরোধিতাকরণ তাদের অন্তরে কিরূপ প্রাকৃতিক রূপ ধারণ করেছিল, আল্লাহ তা'আলা এখানে সেই সংবাদই দিচ্ছেন। এ জন্যেই তারা পরস্পর শপথ করে করে বলেছিল-দেখ, যদি তোমরা শোআ’ইব (আঃ)-এর কথা মেনে নাও তাহলে বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। তাদের এই দৃঢ় সংকল্পের পর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, এই সংকল্পের কারণে তাদের প্রতি এমন এক ভূমিকম্প প্রেরিত হয়েছিল যার ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছিল । আর এই শাস্তি ছিল তাদের সেই কর্মের প্রতিফল যে, তারা বিনা কারণে শশাআ’ইব (আঃ)-কে এবং তার সঙ্গী-সাথীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেছিল ও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যেমন সূরায়ে হুদে বর্ণিত হয়েছে- “যখন আমার শাস্তি তাদের উপর এসে পড়লো তখন আমি শোআ’ইব (আঃ)-কে এবং তার সঙ্গী-সাথীদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে বাঁচিয়ে নিলাম, আর ঐ যালিমদেরকে এমন বজ্রধ্বনি পেয়ে বসলো যে, তারা নিজেদের গৃহে নতজানু অবস্থায় বিনাশ হয়ে গেল।” এই দুটি আয়াতের মধ্যে পারস্পরিক সম্বন্ধ এই যে, যখন ঐ কাফিররা (আরবী) (১১:৮৭) বলে বিদ্রুপ করলো তখন এক ভীষণ বজ্রধ্বনি তাদেরকে চিরতরে নীরব করে দিল। সূরায়ে শুআরার মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন-“তারা যখন নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, তখন মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করলো, এটা ছিল এক ভয়ানক দিবসের শাস্তি।” এর একমাত্র কারণ ছিল এই যে, তারা শাস্তি চেয়ে বলেছিল-“তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের উপর আকাশের একটা খণ্ড ফেলে দাও।” তাই আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিলেন যে, তাদের উপর আসমানী আযাব পৌছে গেল। তাদের উপর তিনটি শাস্তি একত্রিত হলো। (১) আসমানী শাস্তি, তা এইভাবে যে, তাদের উপর মেঘ হতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও অগ্নিশিখা বর্ষিত হলো। (২) এক ভীষণ বজ্রধ্বনি হলো। (৩) এক ভীষণ ভূমিকম্প সৃষ্টি হলো, যার ফলে তাদের প্রাণবায়ু নির্গত হয়ে গেল এবং তাদের আত্মবিহীন দেহ তাদের গৃহ-মধ্যে পড়ে রইলো। মনে হলো যেন তারা সেখানে কখনো বসবাসই করেনি। অথচ তারা তাদের নবীকে দেশ ছাড়া করেছিল। এখন আল্লাহ ঐ কথাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করছেন যে, যারা শশাআ'ইব (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল শেষ পর্যন্ত তারাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।