৫৭-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর: মহান আল্লাহ বলেনঃ প্রকৃতপক্ষে ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় পাপী ও অপরাধী আর কে হতে পারে? যার সামনে তার প্রতিপালকের কালাম যখন পাঠ করা হয় তখন সে ওর প্রতি ক্ষেপও করে না এবং ওর প্রতি আকৃষ্টও হয় না, বরং মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং পূর্বে যে সব দুষ্কর্ম করেছে সেগুলি সবই ভুলে যায়? তার এই দুর্ব্যবহারের শাস্তি এই হয় যে, তার অন্তরের উপর পর্দা পড়ে যায়। ফলে ভাল কাজের প্রতি তার কোন মনোযোগই থাকে না এবং করআন বুঝতে পারে না। তার কানেও বধিরতা এসে যায়। সুতরাং তাকে হিদায়াতের প্রতি লাখো লাখো দাওয়াত দেয়া যাক না কেন সুপথ প্রাপ্তি তার জন্যে অসম্ভব। হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালক বড়ই দয়াবান। তিনি উচ্চ মানের করুণার অধিকারী। যদি তিনি পাপীদেরকে তাড়াতাড়ি শাস্তি দিয়ে দিতেন তবে ভূ-পৃষ্ঠে কোন প্রাণী আজ বাকী থাকতো না। তিনি লোকদের অত্যাচার ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন ও ক্ষমা করে থাকেন। কিন্তু এর দ্বারা এটা মনে করা চলবে না যে, তিনি পাকড়াও করবেনই না। জেনে রেখো যে, তিনি কঠিন শাস্তি দাতা। এটা তো শুধু তার সহনশীলতা, গোপনতার রক্ষণ ও ক্ষমা, যাতে পথভ্রষ্টরা পথে ফিরে আসে এবং পাপীরা তাওবা করতঃ তাঁর করুণার অঞ্চল ধরে নেয়। কিন্তু যারা তার এই সহনশীলতা দ্বারা উপকার লাভ করবে না এবং নিজেদের ঔদ্ধত্য ও হঠকারিতার উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তাদের এটা জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর পাকড়াও করার দিন অতি নিকটবর্তী। ওটা এমন কঠিন দিন যে, শিশু বুড়ো হয়ে যাবে এবং গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। ঐ দিন কোন আশ্রয় স্থল থাকবে না এবং পরিত্রাণেরও কোন উপায় দেখা যাবে না। তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতেরাও তোমাদের মতই আমার আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং কুফরীর উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। শেষে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং দুনিয়ার বুক থেকে তাদের নাম ও নিশানা মুছে ফেলেছি। তাদের ধ্বংস হওয়ার নির্ধারিত সময় এসে পড়ায় তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। সুতরাং হে মুশরিকদের দল! তোমরাও আমার শাস্তির ভয় করো। তোমরা শ্রেষ্ঠ নবীকে (সঃ) কষ্ট দিচ্ছ এবং তাঁর প্রতি অত্যাচার করছো! তাঁকে অবিশ্বাস করছে। অথচ পূর্ববর্তী কাফিরদের তুলনায় তোমাদের শক্তি ও সাজ সরঞ্জাম খুবই কম। সুতরাং তোমরা সবসময় আমার শাস্তির ভয় রেখো এবং উপদেশ গ্রহণ করো।