২৪-২৫ নং আয়াতের তাফসীর আল্লাহ তাআলা বলেন, এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের যখন বলা হয়ঃ “আল্লাহর কিতাবে কি অবতীর্ণ করা হয়েছে?” তখন তারা প্রকৃত উত্তর দান থেকে সরে গিয়ে হুট করে বলে ফেলেঃ ‘এতে পূর্ববর্তীদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই অবতীর্ণ করা হয় নাই। ঐ গুলিই লিখে নেয়া হয়েছে এবং সকালসন্ধ্যায় বার বার পাঠ করা হচ্ছে। সুতরাং তারা আল্লাহর রাসূলের (সঃ) উপর মিথ্যা আরোপ করছে। কখনো তারা একটা কথা বলে, আবার কখনো তার বিপরীত কথা বলে। প্রকৃত পক্ষে তারা একটা কথার উপর স্থির থাকতে পারে না। আর তাদের সমস্ত উক্তি বাজে ও ভিত্তিহীন হওয়ার এটাই বড় প্রমাণ। যারাই এভাবে হক থেকে সরে যায় তারা এভাবেই বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে। কখনো তারা রাসূলুল্লাহকে (সঃ) যাদুকর বলে, কখনো বলে-কবি, কখনো বলেভবিষ্যদ্বক্তা, আবার কখনো বলে-পাগল। অতঃপর তাদের বৃদ্ধগুরু ওয়ালীদ ইবনু মুগীরা বলেঃ “তোমরা সবাই মিলিতভাবে তার কথাকে যাদু বল।”মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি তাদেরকে এই পথে এজন্যেই চালিত করেছি যে, যেন তারা তাদের নিজেদের পূর্ণপাপসহ তাদের অনুসারীদের পাপও নিজেদের স্কন্ধে চাপিয়ে নেয়। সুতরাং তাদের ঐ উক্তির ফল হবে অতি মারাত্মক। যেমন হাদীসে এসেছেঃ যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে। সে ওটা মান্যকারীদের সমপরিমাণ পূণ্য লাভ করে, কিন্তু তাদের পুণ্যের একটুও কম হয় না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অসৎ কাজের দিকে আহ্বান করে সে ওটা পালনকারীদের সমপরিমাণ পাপের অধিকারী এবং তাদের পাপ মোটেই কম করা হয় না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “এবং অবশ্যই তারা নিজেদের পাপের সাথে সাথে আরো পাপের বোঝা বহন করবে এবং তাদের মিথ্যা আরোপের কারণে কিয়ামতের দিন অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে।” (২৯:১৩) সুতরাং তারা তাদের অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করবে বটে, কিন্তু অনুসারীদের পাপের বোঝা মোটেই হালকা করা হবে না (বরং তাদেরকে তাদের পাপের বোঝা বহন করতেই হবে)