এটা হচ্ছে দ্বিতীয় দুআ। তাঁর প্রথম দুআ হচ্ছে তখনকার দুআ’টি যখন তিনি এই শহরটি আবাদ হওয়ার পূর্বে হযরত ইসমাঈলকে (আঃ) তাঁর মা সহ এখানে ছেড়ে এসেছিলেন। আর এটা হচ্ছে এ শহরটি আবাদ হওয়ার পরের দুআ’। এ জন্যেই তিনি (আরবি) (আপনার পবিত্র গৃহের নিকট) বলেছেন। আর তিনি নামায কায়েম করার কথাও উল্লেখ করেছেন।ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বলেন, যে এটা (আরবি) শব্দের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ এটাকে মর্যাদা সম্পন্ন রূপে এজন্যেই বানানো হয়েছে যে, যেন এখানকার লোকেরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে এখানে নামায আদায় করতে পারে। এখানে একথাটিও স্মরণ যোগ্য যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) বললেনঃ “কিছু লোকের অন্তর এর প্রতি অনুরাগী করে দিন।” যদি তিনি সমস্ত লোকের অন্তর এর প্রতি অনুরাগী করে দেয়ার প্রার্থনা করতেন তবে পারসিক, রোমক, ইয়াহুদী, খৃস্টান, মোট কথা দুনিয়ার সমস্ত লোক এখানে এসে ভীড় জমাতো। তিনি শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যে এই প্রার্থনা করেছিলেন। আর প্রার্থনায় তিনি বললেনঃ “ফলাদির দ্বারা তাদের রিকের ব্যবস্থা করুন।” অথচ এই যমীন ফল উৎপাদনের যোগ্যই নয়। এটা তো অনুর্বর ভূমি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দুআ’ও কবুল করেন। ইরশাদহচ্ছেঃ “আমি কি তাদেরকে মর্যাদা সম্পন্ন নিরাপদ শহর দান করি নাই, যেখানে সর্বপ্রকারের ফল পূর্ণভাবে আমদানি হয়ে থাকে? এই রিকের ব্যবস্থা খাস করে আমার নিকট থেকেই করা হয়েছে।” সুতরাং এটা আল্লাহ তাআলার একটা বিশেষ দান ও রহমত যে, এই শহরে কোন কিছুই জন্মে না, অথচ চতুর্দিক থেকে নানা প্রকারের ফল এখানে পূর্ণ মাত্রায় আমদানিহচ্ছে। এটা হচ্ছে হযরত ইবরাহীম খালীলুল্লাহরই (আঃ) দুআ’র বরকত।